জামিয়া সম্পর্কে
জামিয়ার তৃতীয় পরিচালক
জামিয়ার তৃতীয় পরিচালক
জামিয়ার তৃতীয় পরিচালক হলেন কুতুবে আলম হযরত আল্লামা শাহ্ জমির উদ্দীন নানুপুরী (রহ.)। নানুপুরী হযরত ইন্তেকালের ১৩ বছর পূর্বে কুতুবে আলম খতীবে ইসলাম শাহ্ জমীর উদ্দীন নানুপুরী (রহ.) কে পরিচালক হিসাবে মনোনীত করেন এবং নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুদীর্ঘ প্রায় ২৭ বৎসর তিনি এই গুরুদায়িত্ব পালন করেন। নানুপুরী হযরতের পরিপূর্ণ তাওয়াজ্জুহ এবং শাহ জমীর উদ্দীন (রহ.) এর ত্যাগ আর আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটির বদৌলতে আজ জামিয়া ওবাইদিয়া আগের চেয়ে বহুগুণে উন্নীত হয়েছে। কুতুবুল আলম আল্লামা শাহ্ জমীর উদ্দীন নানুপুরী রহ. চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত ফটিকছড়ির প্রসিদ্ধ নানুপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৩৬ সনের এক শুভ মুহুর্তে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আঃ গফুর সাহেব রহ.। দাদার নাম মরহুম নিয়ামত আলী ও পর দাদার নাম মরহুম হিম্মত আলী। বংশীয় দিক থেকে তিনি অত্যন্ত গৌরবের অধিকারী। তিনি স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে পড়ালেখার পর এশিয়ার অন্যতম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীতে ভর্তি হয়ে দরসে নিজামীর নিয়মানুসারে পাঠ্যসূচির সকল কিতাবাদী অধ্যয়নের পর অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে ফারেগ হন। পরবর্তীতে দক্ষতা এবং কৃতিত্বের সহিত নিয়মিত প্রচেষ্টার ফলে নিজেকে একজন কালজয়ী সাধক ও অনুপম ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি যেমন ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক তেমনি ছিলেন উম্মতের জন্য এক মহানুভব আধ্যাত্মিক রাহবার। এক কথায় শিক্ষকতা, আধ্যাত্মিকতা, দাওয়াতী ফিকির ও মসজিদ মাদরাসা প্রতিষ্ঠাসহ দ্বীনের প্রতিটি শাখায় তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য ও তেজোদীপ্ত। তাঁর এই অমর কীর্তিগুলো চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিগত ৫/২/১১ ইং মোতাবেক রোজ শনিবার দিবাগত রাতে এশার নামাজ আদায় করে নিজ প্রয়োজনাদি থেকে ফারেগ হয়ে পবিত্র কাপড় পরিধান করে তিনি হাজারো লাখো ছাত্র, ভক্ত, মুরিদান ও মুহিব্বীনকে বিয়োগ বেদনার অপার সমুদ্রে ভাসিয়ে আল্লাহ আল্লাহ জপতে জপতে "রফীকে আ'লা” তথা উত্তম দোন্তের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্ষণিকের এই পৃথিবীকে জানায় চির বিদায়।
