ছাত্র সংবিধান
জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া (হাফেজুল উলূম), নানুপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। আদেশক্রমে: হযরত আল্লামা শাহ্ ছালাহ উদ্দীন সাহেব (দা.বা.), মুহতামিম, অত্র জামিয়া · প্রকাশনায়: দফতরে তা'লীমাত
প্রারম্ভিকা
মহান রাব্বুল আলামীন অকৃত্রিম দয়া এবং মেহেরবানী করে মানব-দানবকে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই দয়া করে দান করেছেন দ্বীন। সে দ্বীনের প্রতি মানব-দানবকে আহবান করার জন্য যুগে যুগে প্রেরণ করেছেন অসংখ্য নবী-রাসূল এবং নাযিল করেছেন আসমানী গ্রন্থসমূহ। উম্মতে মুহাম্মদীর সর্ববৃহৎ সংবিধান আল্-কুরআন। যারা পার্থিব হায়াতে এ সংবিধানের ধারা সমূহ যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারা পরকালে পাবে পরম শান্তি ও মুক্তি। পক্ষান্তরে যারা এ সংবিধানের বিরুদ্ধাচরণ করবে, তাদের জন্য রয়েছে পরকালে কঠোর শাস্তি। মূলত সংবিধান ছাড়া জীবন পরিচালনা করা, ঘোর নিশ্চিদ্র অমানিশায় কন্টকাকীর্ণ শ্বাপদ সংকুল পিচ্ছিল পথে রাহবারহীন এক অন্ধের যে দুর্গতি, এর চেয়েও ভীষণ, এর চেয়েও সংকটাকীর্ণ হয়ে যায়। আল্লাহর জমীনে সেই কুরআনের ধারা তথা আইন সমূহকে যথাযথ বাস্তবায়ন করার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল-উলূম দেওবন্দ ও তার শাখা-প্রশাখা সমূহ তথা অপরাপর ক্বওমী মাদ্রাসা সমূহ।
হযরত মাওলানা ইয়াকূব নানূতবী (রহ.) দারুল-উলূম দেওবন্দ স্থাপনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, মুসলিম সমাজের সকল ক্ষেত্রে দ্বীন ও উলূমে দ্বীনকে পুনর্জীবিত করা। তথা মুসলিম সমাজে ইসলামের বিশুদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের সরবরাহ করা এবং রুশদ, হিদায়ত ও তাবলীগে দ্বীনের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক খিদমত করা। এটাও উদ্দেশ্য যে, এতে বিশুদ্ধ ইলম-আমল ও আখলাকের প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং শিক্ষার্থীদের জীবন যাত্রায় সচেতন ধর্মীয় অনুভূতির উন্মেষ ঘটানো। সাথে সাথে ফুযালাদেরকে আকাবিরদের অনুসরণে আদর্শিক জীবন ও চরিত্র গঠনে সরল-মেহনতি জীবন-যাপন করার অনুপ্রেরণা দেয়া। উল্লেখ্য যে, দারুল-উলূম দেওবন্দ এবং অপরাপর কওমী মাদ্রাসা সমূহ কেবল বিদ্যা প্রচারের জন্য স্থাপিত প্রতিষ্ঠান নয়। বরং আমলীভাবে জ্ঞানকে নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার নিমেত্তে এ সব মাদ্রাসা প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রও বটে। এ সমস্ত মাদ্রাসা কেবল জ্ঞান-বিদ্যা তথা ইলমে জাহেরী ও বাহ্যিক পাণ্ডিত্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। বরং ইলমের সাথে সাথে আমল, আখলাক, ইশক্ব ও মা'রিফাতের তা'লীম প্রদান করা আসল উদ্দেশ্য। সুতরাং দেওবন্দি চিন্তাধারা তথা ক্বওমী মাদ্রাসা সমূহে ইলম অর্জনের আসল মাক্বছাদ হবে নিজেকে আহকামে ইলাহিয়া মান্যকারী, সুন্নাতে রাসূলের পাবন্দ হিসাবে গড়ে তোলা এবং আত্মশুদ্ধি তথা আখলাকের উন্নতি সাধন করে যোগ্য ওয়ারিসে নবী হওয়া।
প্রকাশ থাকে যে, এ সমস্ত গুণাবলী অর্জন করার জন্য জামিয়া ভিত্তিক যে সংবিধান রয়েছে, তা যথাযথ অনুসরণ করা অপরিহার্য। যিনি যে পরিবেশে বসবাস করে তিনি সেই পরিবেশের নিয়ম-কানুন মেনে চললেই সে পরিবেশ হয় সুন্দর, নিজের জীবন হয় সফল। সুতরাং জামিয়ার ছাত্ররা যদি তাদের সংবিধান অনুসরণ করে চলে, তাহলে তারা হবে কামিয়াব, জীবন হবে সুন্দর। তারা অবশ্যই সফলতার লাল সূর্যকে হাতে নিতে পারবে। অন্যথায় জীবন হবে ব্যর্থ। সত্যিকারের মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে সক্ষম হবে না। তাই উক্ত সংবিধান সকলের মেনে চলা উচিত।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এ জামিয়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে যে সমস্ত কানুন ছাত্রদের উন্নতির জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে, তা জামিয়া কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে একত্রিত করতঃ "ছাত্র সংবিধান" নামে ছাপিয়ে দেয়া হল। আমি আশা করছি যে, প্রত্যেক ছাত্র এ "ছাত্র সংবিধান"টি সংগ্রহ করতঃ সে মতে আমল করবে। তবেই জীবন হবে উন্নত এবং পরকালে হবে নাজাতের সহায়ক। দুআ' করছি, যারা এ "ছাত্র সংবিধান" তৈরির কাজে শ্রম দিয়েছেন, আল্লাহ পাক তাদের শ্রমকে কবূল করুন এবং সকল ছাত্রকে এ "ছাত্র সংবিধান" অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আ-মীন।
ইতি — মুহতাজে দুআ', মোহাম্মদ ছালাহ উদ্দীন
জামিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৩৭৭ হিজরী।
- ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হতে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর গ্রামে অবস্থিত।
- আয়তন: ৫ একর।
- প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম মুহতামিম: কুতুবুল ইরশাদ আলেমে রব্বানী আল্লামা শাহ্ আমীর উদ্দীন (রহ.) — ১৩৭৭ হিজরী হতে ১৩৮০ হিজরী (১৯৬০ ঈসায়ী) পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় মুহতামিম: ক্ষণজন্মা আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ, কুতবুল আলম, আল্লামা শাহ্ সুলতান আহমদ নানুপুরী (রহ.) — ১৩৮০ হিজরী (১৯৬০ ঈসায়ী) হতে ১৪০৬ হিজরী (১৯৮৬ ঈসায়ী) পর্যন্ত।
- তৃতীয় মুহতামিম: কুতবে জমান, মুরশিদে কামেল, খতীবে ইসলাম, আল্লামা শাহ্ জমীর উদ্দীন (রহ.) — ১৪০৬ হিজরী (১৯৮৬ ঈসায়ী) হতে ১৪৩২ হিজরী (৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১১ ঈসায়ী) পর্যন্ত।
- বর্তমান মুহতামিম: পীরে কামেল, হযরতুল আল্লামা শাহ্ ছালাহ উদ্দীন সাহেব (দা.বা.) — ১৪৩২ হিজরী (৬ই ফেব্রুয়ারী ২০১১ ঈসায়ী) হতে।
- বৈশিষ্ট্য: অত্র জামিয়া চিরশ্বাশ্বত জীবন বিধান কুরআনে করীম ও নবী করীম (সা.) কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষার আলোকে সাংস্কৃতিক তৎপরতা, শিক্ষা পদ্ধতি ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়নে স্বাধীন কর্মসূচী, লক্ষ-উদ্দেশ্য ও চিন্তাধারা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ, আত্মশুদ্ধি ও যুগোপযুগী আধুনিক বিষয়াদি শিক্ষাদানে অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একটি বেসরকারি ও অরাজনৈতিক ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- মসলক: আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এবং আসলাফে উম্মতের বাস্তব অনুসারী, দেওবন্দী ও হানফী।
- লক্ষ ও উদ্দেশ্য: মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন, সুন্নাতে রাসূলের অনুসরণ, ইসলামী মূল্যবোধ ও বিশুদ্ধ আক্বীদাহ সমূহ সংরক্ষণ, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ইসলামের অনুপম সভ্যতার সমন্বয় সাধন, তা'লীম ও তরবিয়্যতের মাধ্যমে দ্বীনি তৎপরতা, আত্মিক পরিচ্ছন্নতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বিস্তৃতকরণ, সমাজ ও পরিবেশকে বিদআত, শিরক, বাতিল মতাদর্শ ও সর্বপ্রকারের কুসংস্কার হতে মুক্ত করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ, দ্বীনি দাওয়াত এর জন্য সুদক্ষ দাঈ বাহিনী গঠন ইত্যাদি।
- আয়ের উৎস: অত্র জামিয়া একটি (কওমী) বেসরকারী স্বাধীন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকার, বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ কোন সংস্থার স্থায়ী কোন অনুদান জামিয়ার আয়ের খাত হিসাবে নির্ধারিত নাই। আল্লাহ তাআ'লার উপর পরিপূর্ণ ভরসা ও সাধারণ মুসলমানদের চাঁদা-ছদকা এবং ইসলামী সংস্থা সমূহের সাময়িক অনুদানই জামিয়ার আয়ের একমাত্র উৎস।
- তহবিল: তহবিল ২টি — (ক) চাঁদা তহবিল (খ) ছদকা তহবিল। চাঁদা তহবিল হতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন এবং নির্মাণ ইত্যাদি খাতে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। ছদকা তহবিল হতে এতিম ও দরিদ্র ছাত্রদের অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হয়।
অধিনস্থ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সমূহ
- সোলতানিয়া ইসলামিক একাডেমী, ৬০৭ চশমাহীল, চট্টগ্রাম।
- আঞ্জুমানে সোলতানিয়া বাংলাদেশ।
- জমীরিয়া তা'লীম ও তাযকিয়া পরিষদ বাংলাদেশ এবং তার অধীনে দুই শতাধিক ক্বওমী মাদ্রাসা, হেফজখানা ও জামে মসজিদ সমূহ।
শিক্ষার স্তর সমূহ
দরসে নিজামীর সিলেবাস অনুযায়ী প্রথম জামাত হতে দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত (ইবতেদাইয়্যাহ, মুতাওয়াস্সিতাহ, সানভিয়্যাহ ও আলিয়া অর্থাৎ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর)।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিষয়ক বিভাগ সমূহ
- নূরানী কে.জি. বিভাগ।
- হিফজুল কুরআন বিভাগ।
- জামাতে ইয়াজদাহুম হতে দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত।
- কাব্য চর্চা বিভাগ।
- ইসলামী সাংস্কৃতিক বিভাগ।
- মুনাযারা তর্ক বিভাগ।
- সুন্দর হস্তলিপি ও আর্ট প্রশিক্ষণ বিভাগ ইত্যাদি।
উচ্চতর শিক্ষা বিষয়ক বিভাগ সমূহ
- উচ্চতর তফসীর বিভাগ।
- উচ্চতর হাদীছ বিভাগ।
- উচ্চতর ইসলামী ফিক্বহ (আইন গবেষণা) বিভাগ।
- উচ্চতর তাজভীদ ও ক্বিরাত বিভাগ।
- উচ্চতর আরবী সাহিত্য বিভাগ।
- উচ্চতর বাংলা সাহিত্য বিভাগ।
উপরোক্ত যে কোন বিভাগে ভর্তিচ্ছুক ছাত্রদের জন্য নিম্নোক্ত নিয়মাবলী তথা আইন-কানুন মেনে চলা অপরিহার্য।
ভর্তি ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করার পদ্ধতি
সংগ্রহ: ভর্তিচ্ছুক ছাত্রদের প্রথম কাজ হবে জামিয়ার দফতরে তা'লীমাত থেকে "ছাত্র সংবিধান" ক্রয় করা। অতঃপর উক্ত সংবিধানে যে সব কানুন লিপিবদ্ধ আছে, সব মানতে পারলে, সংবিধানের শেষ পৃষ্ঠার "ভর্তির আবেদন পত্র" পূরণ করে দফতরে তা'লীমাতে জমা দিবে এবং নির্দিষ্ট ফিঃ আদায় করে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে হবে।
পূরণ: ফরমের মধ্যে অফিসিয়াল কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত স্থান সমূহ ছাড়া বাকি স্থান সমূহ যথাযথ ভাবে পূরণ করতে হবে এবং অফিসিয়াল কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত স্থান সমূহ জিম্মাদার ওস্তাদগণের কাছে গিয়ে পূরণ করে তিন দিনের মধ্যে দফতরে তা'লীমাতে স্বাক্ষর দিয়ে জমা দিতে হবে।
অনলাইনে: অনলাইন জামিয়ায় এই সংবিধান পড়ে «আমি পড়েছি» টিক দিয়ে ভর্তি ফর্ম পূরণ করা যায়; অফিসে নগদ ফি দিতে চাইলে ফর্ম প্রিন্ট করে আনুন।
১ নং ধারা — ভর্তি সংক্রান্ত
- (ক) ৫ই শাওয়াল থেকে কুরবানীর ছুটি পর্যন্ত সাধারণ ভর্তি চালু থাকবে। এরপর নাজেমে তা'লীমাত সাহেব (দা.বা.) বিশেষ ক্ষেত্রে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) এর অনুমতিক্রমে ছাত্র ভর্তি করতে পারবেন।
- (খ) কোন নতুন ছাত্রকে জামিয়া কর্তৃপক্ষ যদি পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র আনতে হুকুম করে, তাহলে তা আনতে বাধ্য থাকবে। নতুবা ভর্তির সুযোগ থাকবে না।
- (গ) নতুন ছাত্ররা ভর্তি পরীক্ষা দিতে বাধ্য। তবে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার মার্কশীট পেশ করলে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে।
- (ঘ) প্রত্যেক ছাত্র ভর্তি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ফিঃ আদায় করতে বাধ্য থাকবে।
- (ঙ) ভর্তি ফরম সংগ্রহ করার তারিখ থেকে ফরমের কাজ শেষ করে, তিন দিনের মধ্যে উক্ত ফরম দফতরে তা'লীমাতে নিজ হাতে স্বাক্ষর দিয়ে জমা দিতে হবে। অন্যথায় উক্ত ফরম বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
২ নং ধারা — সাধারণ ছাত্রদের জন্য আইন-কানুন
- (ক) প্রত্যেক ছাত্রের জামিয়ার আদর্শ লক্ষ ও উদ্দেশ্য সমূহের অনুসরণ অনুকরণ করা অপরিহার্য।
- (খ) বিশেষতঃ আকাবেরে দেওবন্দের আদর্শ-মাসলাক তথা চিন্তাধারার অনুসরণ করা একান্ত প্রয়োজন।
- (গ) প্রত্যেক ছাত্রকে সুন্নাতের পাবন্দ হতে হবে।
- (ঘ) চুল, দাড়ি ও লেবাস-পোষাক শরীয়ত সম্মত ও সলফে-ছালেহীনের নমুনার উপর হতে হবে। সুতরাং পরিধেয় জামা "নিছফে সাক্ব" তথা পায়ের গোছার অর্ধেক পর্যন্ত হতে হবে। লুঙ্গি এবং পায়জামা টাখনুর উপরে পরিধান করতে হবে। নকশাকৃত টুপি, এমব্রয়ডারীযুক্ত ও কপওয়ালা জামা, বোগল, কাট (সন্ত) গেঞ্জি ও হাত ঘড়ি ব্যবহার পরিত্যাগ করতে হবে।
- (ঙ) দাড়ি কামানো, উঠানো ও এক মুষ্টির মধ্যে ছাটানো, ইংলিশ কাট চুল রাখা এবং ধুমপান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অতএব উল্লিখিত দোষ সমূহ বহিস্কারযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে।
- (চ) জামিয়ার শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মচারীদের সাথে সদাচরণ ও পূর্ণ আদব রক্ষা করা অপরিহার্য হবে। আইন-কানুন অমান্যকারী ছাত্রদেরকে শাস্তি প্রদানের পূর্ণ ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রতিটি শিক্ষকের থাকবে। এতে কোন ছাত্রের আপত্তি করার সুযোগ থাকবে না। সর্বদা শিক্ষকগণের নির্দেশ মেনে চলা প্রত্যেক ছাত্রের জন্য ওয়াজিব হবে। যে কোন শিক্ষক-কর্মচারীর সাথে বে-আদবী, অসভ্যতা ও ধৃষ্ঠতা প্রদর্শন মারাত্মক অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। বড় ছোটকে স্নেহ ও ছোট বড়কে সম্মান সুলভ আচরণ বজায় রাখতে হবে। ছাত্রদের পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ, কুরুচিপূর্ণ আলাপ-আলোচনা, অসৎ চরিত্র অবলম্বন, গীবত-শিকায়ত, চোগলখোরী, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি অশ্লীল কাজ হতে বিরত থাকা আবশ্যক কর্তব্য।
- (ছ) জামিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক কোন রূপ সংগঠন করা বা তাতে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। জামিয়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন ধরনের মিটিং সমাবেশে যোগদান আইনত নিষিদ্ধ। অনুরূপ ভিন্নধর্মী ও ভিন্ন মাযহাবী কোন ধরনের অনুষ্ঠান বা মাহফিলে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যেহেতু এ কাজ সমূহ ছাত্রদের জন্য অকল্যাণকর ও ক্ষতিকর, সুতরাং উক্ত কাজগুলো থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক ছাত্রের জন্য অপরিহার্য।
- (জ) কোন ছাত্রের স্বভাব-চরিত্র আচার ব্যবহার যদি খারাপ হয়, যার দ্বারা অন্য ছাত্র নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে জামিয়া থেকে উক্ত ছাত্রকে বহিষ্কার কিংবা শাস্তি প্রদান করার অধিকার জামিয়া কর্তৃপক্ষের থাকবে।
- (ঝ) কোন সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
- (ঞ) কোন ছাত্র অন্য কোন ছাত্রকে খারেজী পড়াতে বা তার তত্ত্বাবধান করতে পারবে না। কিন্তু কেউ যদি কোন ছাত্রের আইনতঃ অভিভাবক হয়, তবে জামিয়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তত্ত্বাবধান করতে পারবে। তবে কোন প্রকারের শাসন ও বিচার করতে পারবে না।
- (ট) কোন ছাত্র চুরিতে ধরা পড়লে অথবা চুরি করার অধিক সন্দেহ হলে, তাকে জামিয়া থেকে বহিষ্কার করা হবে।
- (ঠ) কোন ছাত্র পূর্ব অনুমোদিত ছুটি ব্যতীত এক ঘন্টার জন্যও সবকে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না। সবক চলাকালীন সময়ে এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করা বা দোকানে যাওয়া নিষেধ।
- (ড) কোন ছাত্র জামিয়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জায়গীর গ্রহণ করতে পারবে না।
- (ঢ) শিক্ষকগণের ইজ্জত ইহতিরামের প্রতি লক্ষ করে তাঁদের জন্য নির্ধারিত সীট, আরামগাহ, টয়লেট ও গোসলখানা ইত্যাদি ব্যবহার পরিত্যাগ করা প্রত্যেকটি ছাত্রের নৈতিক দায়িত্ব।
- (ণ) ছাত্ররা যে কোন অসুবিধা ও সমস্যা সমাধানকল্পে জিম্মাদার শিক্ষককে অবহিত করবে। সুতরাং কোন ছাত্র নিজ হাতে বিচার তুলে নিতে পারবে না এবং কোন অন্যায়ের প্রতিশোধ নিজ হাতে নেওয়া মারাত্মক অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। এতে কোন সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না।
- (ত) সবকে অনুপস্থিত থাকা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে অসুস্থতা বা বিশেষ কোন ওযর থাকলে দফতরে তা'লীমাত থেকে ছাপানো দরখাস্ত সংগ্রহ করে নেগরান হুজুর থেকে স্বাক্ষর নেয়ার পর ৫ দিনের কম হলে নাজেমে তা'লীমাত থেকে, ৫ দিনের বেশি হলে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) থেকে ছুটি মঞ্জুর করে নিবে। অতঃপর খোরাকী বন্ধ করে উক্ত দরখাস্ত দফতরে তা'লীমাতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় ছুটি মঞ্জুর হবে না। তবে, দু'এক ঘন্টার জন্য নির্ধারিত সবকের ওস্তাদের মৌখিক ছুটি যথেষ্ট হবে।
- (থ) কোন ছাত্র ছুটি ব্যতীত একাধারে ১৫ দিন যে কোন একটি সবকেও অনুপস্থিত থাকলে, তাকে বহিস্কার করা হবে। তবে যদি সে পুনরায় ভর্তি হতে চায়, তাহলে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) থেকে দরখাস্তের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে নাজেমে তা'লীমাতের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, পুনরায় ভর্তিতে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে দ্বিতীয় বার ফরম নিতে হবে। যদি উপরোক্ত কারণে বছরে তিন বার বহিষ্কৃত হয়, তাহলে তার আর ভর্তির আবেদন কবুল করা যাবে না।
- (দ) ছাত্রদের জন্য স্মার্ট মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ। কোন ছাত্রের কাছে স্মার্ট মোবাইল পাওয়া গেলে, সঙ্গে সঙ্গে বহিস্কার করা হবে।
৩ নং ধারা — দারুল-ইক্বামায় (ছাত্রাবাসে) অবস্থানরত ছাত্রদের নিয়ম-কানুন
- (ক) দারুল-ইক্বামায় অবস্থানরত সকল ছাত্র নাজেমে দারুল-ইক্বামার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং তাঁর সকল প্রকার নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
- (খ) সবকের সময় ছাড়া অন্য সময়ে তাকরার ও ব্যক্তিগত কিতাবাদি অধ্যয়নের জন্য নিম্নোক্ত সময়ের অনুসরণ করতে হবে — (১) মাগরিবের নামাযের পর থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত। (২) শেষ রাত্রি ও ফজরের নামাযের পর থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত।
- (গ) প্রতিদিন সকাল ৯ টা বা সাড়ে ৮ টায় গোসলের এবং ৯টা ৩০ মিনিটের সময় খানার ঘন্টা বাজানো হবে। এর আগে-পরে গোসল করা বা খানার জন্য বাবুর্চিখানায় যাওয়া অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
- (ঘ) সকালের খানা সবকের ঘন্টা বাজানোর আগে, বিকালের খানা মাগরিবের আগে খেয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় সে শাস্তির উপযুক্ত হবে।
- (ঙ) দারুল-ইক্বামায় অবস্থান করার জন্য কমপক্ষে দশ বৎসর বয়স হওয়া জরুরী। তবে দশ বৎসরের কম হলে, তার সাথে কোন নিকটতম আত্মীয় থাকতে হবে।
- (চ) আছরের নামাযের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এবং সকাল ৯ টার পর থেকে ১০ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়ে সকলেই ব্যক্তিগত প্রয়োজন সমাধান/পূরণ করবে।
- (ছ) ছাত্রদের চায়ের দোকানে বসা নিষেধ। প্রয়োজনে নিজ কক্ষে এনে চা-নাস্তা করবে।
- (জ) ছাত্রদের উচিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে তাহযীব-তামাদ্দুন, উন্নত চরিত্র ও অনুপম আদর্শ এবং তাক্বওয়া-পরহেজগারীর নমুনা পেশ করা। সুতরাং প্রত্যেক ছাত্র নিজ কক্ষ ও কক্ষের অগ্র-পশ্চাৎ পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতি বৃহস্পতিবার ও সোমবার নিজ নিজ কক্ষ এবং বারিন্দা পরিষ্কার করতে হবে। ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না, বরং নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। জামিয়ার দেয়ালে কোন ধরনের লেখা লিখতে পারবে না এবং কক্ষের প্রত্যেকটি আসবাব স্ব স্ব স্থানে সাজিয়ে রাখতে হবে। উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক রুমে দৈনিক ছাফায়ীর তালিকা থাকতে হবে এবং সকল রুমবাসীর তালিকা রুমের বাইরে লাগিয়ে রাখতে হবে। সাথে সাথে সকল ছাত্রের ব্যক্তিগত ভাবে নেযামুল আওক্বাত তথা দৈনিক কর্মসূচীর তালিকা থাকতে হবে।
- (ঝ) শেষ রাত্রে ঘন্টা বাজানোর সাথে সাথে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করতঃ কিতাব অধ্যয়ন করবে।
- (ঞ) জুমা সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সাথে আদায় করতে হবে। যদি কোন প্রয়োজনে নামায অন্য কোথাও আদায় করতে হয়, তাহলে নাজেমে দারুল ইক্বামা থেকে অনুমতি নিতে হবে। তাঁকে পাওয়া না গেলে অন্য কোন একজন ওস্তাদ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
- (ট) বিনা প্রয়োজনে অথবা সবক ও নিজের লেখাপড়া বা তাকরারের সময় বাজারে ঘোরাফেরা করা নিষেধ।
- (ঠ) তাকরার ও লেখাপড়ার সময় নিজ কক্ষে বসে গল্প করা বা অন্য যে কোন কাজ করা কিংবা নিদ্রা যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
- (ড) তাক্বরার বা লেখাপড়ার সময় বিশেষ প্রয়োজনে জামিয়ার বাইরে যেতে হলে, নাজেমে দারুল-ইক্বামা থেকে অনুমতি নিতে হবে।
- (ঢ) যে কোন সাথীর যে কোন জিনিষ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা মারাত্মক অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- (ণ) নাজেমে দারুল-ইক্বামার সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন সিট দখল বা নিজেদের মধ্যে সিটের রদবদল করা যাবে না।
- (ত) রেডিও ও ক্যাসেট শ্রবণ, নোবেল জাতীয় অশ্লীল বই-পুস্তক, ম্যাগাজিন, পেপার-পত্রিকা ও আকাবেরে দেওবন্দের চিন্তাধারা বিরোধী বই-পুস্তক পাঠ নিষিদ্ধ এবং উল্লিখিত আসবাবপত্র কোন ছাত্রের কাছে পাওয়া যাওয়াও অবৈধ।
- (থ) এক বিছানায় বা এক মশারিতে দুই জন ছাত্র এক সাথে ঘুমানোর অনুমতি নেই। একে অপরের রুমে গিয়ে খানা খাওয়া, আড্ডা দেয়া ও গল্প করা নিষেধ।
- (দ) রাত ১১ টার পর বা শেষ রাত্রে ঘন্টা বাজানোর আগে যদি কোন ছাত্র কিতাব অধ্যয়ন করতে চায়, তাহলে নিরবে পড়তে হবে। রুমের মধ্যে লাইট জ্বালিয়ে রাখা অথবা অপরের ঘুমের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করা নিষেধ।
- (ধ) যে সমস্ত ছাত্র ঘোরাফেরায় লিপ্ত থাকে, বন্ধু-বান্ধবদের অপ্রয়োজনীয় মেহমানদারীতে ব্যস্ত থাকে এবং বিভিন্ন খেলা-ধুলাতে অভ্যস্ত হয়, তাদেরকে প্রথমে সতর্ক করে দেওয়া হবে। এতে শুধরে না গেলে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। এতেও পরিবর্তন না হলে জামিয়া থেকে বহিস্কার করা হবে।
- (ন) নাজেমে দারুল-ইক্বামার অনুমতি ছাড়া ছাত্রাবাসে কোন মেহমান রাখা নিষেধ।
- (প) দফতরে তা'লীমাত থেকে নিযামুল আওক্বাত সংগ্রহ করে কক্ষের মূল জায়গাতে লাগাতে হবে এবং সর্বদা তা অনুসরণ করে চলতে হবে।
- (ফ) ছাত্র জীবনে কিতাব অধ্যয়ন ব্যতীত অন্য সব পেশা বর্জনীয়। সুতরাং কোন ছাত্র ইমামতি, মুআযযিনী বা আয়ের অন্য কোন পেশা অবলম্বন করলে জামিয়ার ইমদাদী খোরাকী এবং ছাত্রাবাসে অবস্থান করার সুযোগ পাবে না। হ্যাঁ, নিয়মিত সবকে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে যদি জামিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে ঐ কাজের অনুমতি দান করে, তাহলে ভিন্ন কথা।
- (ব) কোন ছাত্র ইচ্ছাকৃত ভাবে নাজেমে তা'লীমাত কর্তৃক নির্দেশিত সবক বা নীতির বিরোধিতা করলে কিংবা কোন ওস্তাদের সাথে অশুভ আচরণ করলে তাকে জামিয়া থেকে বহিস্কার করা হবে।
- (ভ) দারুল-ইক্বামায় জামিয়ার পক্ষ থেকে বিদ্যুতের যে লাইন টানা হয়েছে, তা ছাড়া অতিরিক্ত লাইন টানা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
৪ নং ধারা — ছাত্রদের শাস্তি ও বহিস্কারযোগ্য অপরাধ
- (ক) ২ নং ধারার জ ও ঝ ছাড়া বাকি নিয়ম কানুনের বরখেলাফ (পরিপন্থী) করলে, তা'লীমাত কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত শাস্তির পদক্ষেপ নিবেন।
- (খ) ৩ নং ধারায় বর্ণিত নিয়ম-কানুনের বিরুদ্ধাচরণ করলে, নাজেমে দারুল-ইক্বামা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা প্রদান বা উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করবেন।
- (গ) কোন ছাত্রকে ২ নং ধারার জ, ঝ ও ঠ এ বর্ণিত কানুনের বিরুদ্ধাচরণ করতে পাওয়া গেলে, তাকে বহিস্কার করা হবে।
- (ঘ) কোন ছাত্রকে কোন অপরাধের কারণে শাস্তি প্রদান করার পরও যদি উক্ত অপরাধ পরিত্যাগ না করে পুনরায় জড়িত হয়, তাহলে তাকে বহিস্কার করা হবে।
- (ঙ) যে কোন সবকেও বিনা ছুটিতে একাধারে ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাকে বহিস্কার করা হবে। তবে যদি সে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) বরাবরে দরখাস্তের মাধ্যমে অনুমতি নেয়, তাহলে নির্দিষ্ট ফি আদায় করে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে।
- (চ) অনুমতি ছাড়া ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে, তাকে জামিয়া থেকে বহিস্কার করা হবে। তবে মজলিসে ইলমীর অনুমতি নিয়ে এবং নির্ধারিত ফি আদায় করে নতুন ফরম সংগ্রহ করে আবার ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে।
- (ছ) কোন ছাত্র যদি অপর কোন ছাত্রকে মারধর করে, তাহলে তাকে বহিস্কার করা হবে। যদি উভয়পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়, তাহলে উভয়পক্ষকে বহিস্কার করা হবে।
- (জ) যদি কোন ছাত্র জামিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয় বা কোন ওস্তাদের সাথে বে-আদবী করে, তাহলে তাকে বহিস্কার করা হবে।
৫ নং ধারা — জামিয়ার সময় সংক্রান্ত
- (ক) জামিয়ার শিক্ষাবর্ষ ৫ই শাওয়াল আরম্ভ হয়ে ১৩ই শা'বানে সমাপ্ত হবে। তবে প্রয়োজনে জামিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে রদবদল করার অধিকার রয়েছে।
- (খ) সবকের সময় সকাল ১০টা বা ১০টা ৩০ মিনিট থেকে আছরের নামায পর্যন্ত গণ্য হবে। মাঝখানে জোহরের নামাযের জন্য ৪৫ মিনিট বিরতি থাকবে।
- (গ) বিভিন্ন বিভাগও কার্যালয়ের সময় মজলিসে ইলমীর পরামর্শক্রমে নির্ধারিত হবে।
- (ঘ) নাজেরা ও হিফজ বিভাগের সময় মুহতামিম সাহেব মজলিসে ইলমীর পরামর্শক্রমে নির্ধারণ করবেন।
৬ নং ধারা — বন্ধ সংক্রান্ত
- (ক) প্রতি বছর ১৪ই শা'বান থেকে ৪ঠা শাওয়াল পর্যন্ত রমজান উপলক্ষে জামিয়া বন্ধ থাকবে। তবে হিফজ বিভাগের বন্ধ ১৬ই রমজান থেকে আরম্ভ হবে।
- (খ) কুরবানী উপলক্ষে জামিয়া ৫ই জিলহজ্জ থেকে ২০ই জিলহজ্জ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) এতে রদবদল করতে পারবেন।
- (গ) প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন কার্যালয় ও মাতবখ ছাড়া বাকি বিভাগগুলো বন্ধ থাকবে।
- (ঘ) সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষা পূর্বে দুই দিন, কাগজ দেখার জন্য পরে দুই দিন এবং বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ১৫ দিন সবক বন্ধ থাকবে।
- (ঙ) ধান্য মৌসুমে জামিয়ার আর্থিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের বন্ধ দেওয়া যাবে।
- (চ) উপরোক্ত বন্ধগুলো মজলিসে ইলমীর পরামর্শক্রমে হবে এবং প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করার অধিকার তাদের রয়েছে।
৭ নং ধারা — জামিয়া থেকে এমদাদী খোরাকী পাওয়ার শর্তাবলী
- (ক) এমদাদী খোরাকী পাওয়ার জন্য যাকাতের উপযোগী দরিদ্র ছাত্র হওয়া শর্ত।
- (খ) প্রতিটি পরীক্ষায় গড়ে ৬০ নম্বর না পেলে এমদাদী খোরাকী পাবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) এর বিশেষ বিবেচনা করার অধিকার থাকবে।
- (গ) নতুন ছাত্ররা ভর্তি পরীক্ষায় শতকরা ৬০ নম্বর পেলে এমদাদী খোরাকী পাবে। তবে প্রথম একমাসের খোরাকী নিজে বহন করতে হবে। এর চেয়ে কম নম্বর পেলে নাজেমে তা'লীমাতের মন্তব্যের ভিত্তিতে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
- (ঘ) জামাতে হাফতুম থেকে উপরের জামাতের ছাত্রদের কে এমদাদী খোরাকী প্রদান করা হবে। জামাতে হাস্তম থেকে নিচের জামাতের ছাত্রদের এমদাদী খোরাকী দেয়া/না দেয়ার ব্যাপারে জামিয়ার আয়-ব্যয়ের প্রতি লক্ষ করে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) সিদ্ধান্ত নিবেন।
- (ঙ) প্রতি শিক্ষা বছরের শুরুতে এবং কুরবানীর বন্ধের পর প্রতি ছাত্র কমপক্ষে এক মাসের খোরাকীর পরিমাণ তাহছীল জামিয়ায় জমা দিবে। অন্যথায় যে পরিমাণ তাহছীল কম হবে, সে পরিমাণ খোরাকী নিজ দায়িত্বে থাকবে।
৮ নং ধারা — জামিয়ার শিক্ষার স্তরসমূহ
(ক) জামিয়ার শিক্ষার স্তরসমূহ নিম্নরূপ:
- নূরানী কে.জি — ৩ বছর
- ইবতেদাইয়্যাহ: দুওয়াযদাহুম থেকে জামাতে হাস্তম পর্যন্ত — ৫ বছর
- মুতাওয়াসসিতাহ: হাফতুম থেকে পাঞ্জুম পর্যন্ত — ৩ বছর
- সানভিয়্যাহ: চাহারুম হতে দুয়াম পর্যন্ত — ৩ বছর
- আলিয়া: উলা হতে দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত — ২ বছর
- মোট ১৬ বছর
(খ) তাখাচ্ছুছাত:
- তাখাচ্ছুছ ফি-উলূমিল কুরআন — ১ বছর
- তাখাচ্ছুছ ফি-উলূমিল হাদীছ — ২ বছর
- তাখাচ্ছুছ ফিল-ফিক্বহ — ২ বছর
- তাখাচ্ছুছ ফি-লুগাতিল আরাবিয়্যাহ — ২ বছর
- তাখাচ্ছুছ ফিল-লুগাতিল ওয়াতানিয়্যাহ — ২ বছর
- তাখাচ্ছুছ ফি-তাকমীলিদ্দীনিয়াত — ১ বছর
- তাখাচ্ছুছ ফি-উলূমিল আক্বলিয়্যাহ — ১ বছর
- (গ) ক্বিরাত বিভাগের শিক্ষাকাল জামিয়ার শিক্ষাগত আয়োজন ভেদে ২ বছর বা ১ বছর থাকবে।
- (ঘ) প্রয়োজনে এ ছাড়া অন্যান্য তাখাচ্ছুছাত বা বিভাগ খোলা যাবে।
৯ নং ধারা — পরীক্ষা সংক্রান্ত
(ক) জামিয়ায় দু'ধরনের পরীক্ষা হবে:
- দাখেলা পরীক্ষা (ভর্তি পরীক্ষা) যা পৃথক পৃথক ভাবে নতুন ছাত্রদের ভর্তির সময় নেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে ছাত্রদের যোগ্যতা যাচাই করে, যোগ্যতা অনুসারে নির্ধারিত জামাতে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হবে।
- তা'লীমী পরীক্ষা (শিক্ষার উন্নতির জন্য পরীক্ষা) এ ধরণের পরীক্ষা প্রতি বৎসর তিনবার অনুষ্ঠিত হবে — প্রথম: ছফর মাসে ১ম সাময়িক পরীক্ষা; দ্বিতীয়: জুমাদাল উলা মাসে ২য় সাময়িক পরীক্ষা; তৃতীয়: শা'বান মাসে বার্ষিক পরীক্ষা। এ ছাড়াও প্রয়োজনে বিশেষ জামাতের বিশেষ কিতাব সমূহের পরীক্ষা প্রতি মাসে একবার নেওয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে মজলিসে ইলমী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
- (খ) জামাতে নাহুম পর্যন্ত কিতাব সমূহ এবং হিফজ ও নূরানীর পরীক্ষা মৌখিক গ্রহণ করা হবে। বাকি জামাতগুলোর পরীক্ষা লিখিত ভাবে হবে।
- (গ) প্রতি কিতাবের সাময়িক পরীক্ষা ঐ কিতাবের শিক্ষকই গ্রহণ করবেন। বার্ষিক পরীক্ষা ভিন্ন শিক্ষকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে।
- (ঘ) প্রতি পরীক্ষায় সর্বোচ্ছ নম্বর ১০০ এবং পাশের নম্বর ৩৫ হবে। আর দরজা বা বিভাগ নির্ধারণ নিম্নরূপ হবে — মুমতায ৮০–১০০ · জাইয়িদ জিদ্দান ৬৫–৭৯ · জাইয়িদ ৫০–৬৪ · মাকবূল ৩৫–৪৯। ৩৫ এর কম নম্বর পেলে রাসেব অর্থাৎ অকৃতকার্য বলে গন্য হবে।
- (ঙ) যদি কোন ছাত্র গড়ে প্রতি কিতাবে ৩৫ নম্বর পায়, তবে একটি কিতাবে অকৃতকার্য হলেও তাকে মাকবূল ঘোষণা করা হবে। তবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ কিতাব না হতে হবে।
- (চ) জামিয়া যদি ছাত্রদেরকে পুরস্কার দিতে চায়, তবে জাইয়িদ জিদ্দান ও মুমতাযে উত্তীর্ণ ছাত্রদেরকেই দিতে পারবে।
- (ছ) কোন ছাত্র অনুমতি ছাড়া বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে, পরবর্তী বৎসর তাকে তরক্বী দেয়া হবে না। যদি গ্রহণযোগ্য ওযরের কারণে জামিয়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে তাকে ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল দেখা কিংবা নতুন ভাবে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তরক্বী দেয়া বা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
- (জ) বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০ দিন সবকে উপস্থিত থাকতে হবে।
- (ঝ) গ্রহণযোগ্য ওযর ও অনুমতি ছাড়া ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষার যে কোন এক বিষয়েও অংশগ্রহণ না করলে, সে জামিয়া থেকে বহিস্কৃত বলে গন্য হবে। হ্যাঁ, মজলিসে ইলমীর অনুমতি নিয়ে ও নির্ধারিত ফি আদায় করে নতুন ফরম গ্রহণ করে আবার ভর্তি হতে পারবে।
- (ঞ) নকলবাজীতে ধরা পড়লে, তার সে দিনের পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাবে। দাওরায়ে হাদীছের কোন ছাত্র বার্ষিক পরীক্ষায় নকলে ধরা পড়লে, তাকে সনদ দেয়া যাবে না। যদি সে অনুমতিক্রমে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাহলে সনদ দেয়া যাবে।
- (ট) লিখিত পরীক্ষা দেয়ার সময় বিশেষ কাগজে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে স্বাক্ষর দিতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষা দেয়া সাব্যস্ত হবে না।
- (ঠ) ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষা চার দিনে নেয়া হবে। উক্ত পরীক্ষার আগে দু'দিন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এবং পরে দু'দিন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কাগজ দেখার জন্য, মোট চার দিন জামিয়ার সবক বন্ধ থাকবে।
- (ড) পরীক্ষার ফিস নেয়া-না নেয়া ও ফিসের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত মজলিসে ইলমীর পরামর্শক্রমে গ্রহণ করা হবে।
- (ঢ) প্রত্যেক ছাত্রের পরীক্ষার ফিস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদায় করা অপরিহার্য।
১০ নং ধারা — ছুটি সংক্রান্ত
- (ক) যে কোন বিভাগের কোন ছাত্রের কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে, প্রথমে দফতরে তা'লীমাত হতে ছাপানো "ছুটির আবেদনপত্র" সংগ্রহ করে পূরণ করার পর নেগরান হুজুরের স্বাক্ষর নিতে হবে। অতঃপর ৫ দিনের কম হলে নাজেমে তা'লীমাত থেকে এবং ৫ দিনের বেশি হলে হযরত মুহতামিম সাহেব (দা.বা.) থেকে ছুটি মঞ্জুর করে বোর্ডিং সুপার ও নাযেমে দারুল-ইক্বামার স্বাক্ষর নিয়ে দফতরে তা'লীমাতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় ছুটি মঞ্জুর হবে না।
- (খ) নিজের ছুটি নিজে নিতে হবে। অন্য কারো মাধ্যমে ছুটি নিতে পারবে না।
- (গ) কোন ছাত্র কোন বিপদে পড়ে ছুটি নিতে না পারলে, ফোন বা ফ্যাক্সের মাধ্যমে নাজেমে তা'লীমাতের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। অন্যথায় পরে তার ওযর গ্রহণযোগ্য হবে না।
- (ঘ) সবকের সময় যদি এক/দুই ঘন্টার জন্য কোথাও যেতে হয়, তাহলে সে ঘন্টার হুজুর থেকে মৌখিক ছুটি নিলে যথেষ্ট হবে।
- (ঙ) যে ঘন্টা যে ওস্তাদের কাছে, সে ঘন্টার জন্য উক্ত ওস্তাদের ছুটি দেয়ার অধিকার রয়েছে। অন্য ঘন্টার জন্য নয়।
- (চ) ঘন্টার সময় ছাড়া অন্য সময় কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে, নিজ নেগরান হুজুর ও নাজেমে দারুল-ইক্বামা থেকে ছুটি নিতে হবে। অন্যথায় শাস্তির উপযোগী হবে।
১১ নং ধারা — মাতবাখ সংক্রান্ত
- (ক) কোন ছাত্রের ছুটি মঞ্জুর হলে বা খানা বন্ধ করতে হলে বোর্ডিং সুপারকে জানাতে হবে এবং খানার হাজিরা বন্ধ করতে হবে।
- (খ) ছুটি শেষে জামিয়ায় উপস্থিত হয়ে খানার হাজিরা খুলতে হবে। অন্যথায় খানার মূল্য আদায় করতে বাধ্য থাকবে।
- (গ) সাড়ে ৯ টা হতে সবকের ঘন্টা পর্যন্ত এবং আছরের পর হতে মাগরিব পর্যন্ত খানা দেয়া হবে। সুতরাং এ সময়ের ভিতরে খানা উঠাতে হবে।
- (ঘ) নির্ধারিত সময় ব্যতীত অন্য সময় খানা দেয়া যাবে না। হ্যাঁ, কোন গ্রহণযোগ্য ওযরের কারণে অসময়ে খানা নিতে হলে নাজেমে মাতবাখের অনুমতি নিয়ে নিতে হবে।
- (ঙ) মাতবাখের কোন জিনিস কারো জন্য ব্যবহার করা জায়েয নাই।
- (চ) কোন মেহমানের জন্য খানা নিতে হলে, ছাত্রদের খানা দেয়ার শেষে নিতে পারবে। তাও ক্রয় করে নিতে হবে।
- (ছ) বাবুর্চিখানায় কারও জন্য পানাহারের অনুমতি নাই।
- (জ) বাবুর্চিখানার ব্যাপারে কোন অভিযোগ থাকলে, তা নিয়ে সরাসরি বাবুর্চিদের সাথে বাড়াবাড়ি কিংবা ঝগড়া করা ছাত্রদের জন্য অশুভনীয়। হ্যাঁ, গঠনমূলক কোন অভিযোগ হলে, তা অবশ্যই নাজেমে মাতবাখকে জানানো যাবে।
১২ নং ধারা — কুতুবখানা (গ্রন্থাগার) সংক্রান্ত
(ক) কুতুবখানা থেকে আরিয়াত (ধার) স্বরূপ কিতাব পাওয়ার শর্তাবলী:
- জামিয়ার শিক্ষক, ছাত্র কিংবা নিয়মিত কর্মচারী হতে হবে।
- কোন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে কফীল বানাতে হবে।
- আরিয়াতের সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে ধার নেয়া কিতাব ফেরৎ দেয়ার জন্য অঙ্গীকার করতে হবে।
- যথা সম্ভব কিতাবের হিফাযত করতে হবে।
- তার বিরুদ্ধে কুতুবখানার কোন অভিযোগ না থাকতে হবে।
- (খ) দাওরায়ে হাদীছ ও তাখাচ্ছুছাতের ছাত্রদের কিফালত গ্রহণযোগ্য হবে না।
- (গ) ধার দেয়া কিতাব নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে, আরিয়াত গ্রহণকারী ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
- (ঘ) ছাত্রদেরকে তাদের সবকের মূল কিতাব আরিয়াত দেয়া হবে। টিকাগ্রন্থ কিংবা অন্যান্য অধ্যয়নের কিতাব কুতুবখানায় গিয়ে অধ্যয়ন করার অনুমতি থাকবে।
- (ঙ) পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্রস্তুতি, মুনাযারা, মুবাহাসা প্রভৃতির জন্য কিতাব প্রয়োজনে আরিয়াত নেয়া যাবে। তবে আরিয়াতের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে কুতুবখানায় পৌছে দেয়া অপরিহার্য হবে।
- (চ) সাধারণতঃ ছাত্রদের আরিয়ত প্রদত্ত যাবতীয় কিতাব শা'বান মাসে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে কুতুবখানায় পৌছে দেয়া জরুরী হবে।
- (ছ) কুতুবখানার পূর্বের মামলার সুরাহা না হলে দ্বিতীয়বার কিতাব আরিয়াত দেয়া হবে না।
- (জ) বার্ষিক পরীক্ষার সময় যে দিন যে কিতাবের পরীক্ষা শেষ হবে, সে দিন সেই কিতাব কুতুবখানায় জমা দেয়া জরুরী। অন্যথায় তার বাকি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাবে।
১৩ নং ধারা — উচ্চতর হাদীছ গবেষণা বিভাগ
- (ক) হাদীছ গবেষণা বিভাগের প্রত্যেক ছাত্র নিজেকে সম্পূর্ণ রুপে উস্তাদের নিকট সোপর্দ করে দিতে হবে।
- (খ) হাদীছ বিভাগে অবস্থানকালে কোন প্রকারের চাকুরী, ইমামতি, মুআযযিনী ও টিউশনী ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- (গ) কোন প্রকার রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যেক ভাবে জড়িত থাকতে পারবে না।
- (ঘ) জামিয়ার কানুন পরিপন্থী কোন প্রকার কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
- (ঙ) কোন ছাত্রের কোন অভিযোগ থাকলে, প্রথমে বিভাগীয় প্রধানকে অবহিত করতে হবে।
- (চ) কোন ছাত্রের কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে, বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নিয়ে তা'লীমাত থেকে ছুটি মঞ্জুর করে যেতে হবে।
- (ছ) জামিয়ার শিক্ষকদের যথাযথ মান-সম্মান রক্ষা করে চলতে হবে।
- (জ) সাথীদের সাথে মুহাব্বত ও ভদ্রতার সম্পর্ক বজায় রাখা, ঝগড়া-ফাসাদ ও গীবত শিকায়ত থেকে বিরত থাকা, ভিতরের কথা বাইরে না বলা ও বাইরের কথা ভিতরে না বলা ইত্যাদি প্রত্যেক ছাত্রের জন্য আবশ্যক।
- (ঝ) প্রথম ছফে তাকবীরে উলার সাথে নামায আদায় করতে হবে।
- (ঞ) জামিয়া কর্তৃক পড়ার নির্ধারিত সময়ে মোবাইল ব্যবহার করা, অনুরূপ মেমোরি বিশিষ্ট মোবাইল (স্মার্ট ফোন) ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- (ট) হাদীছ বিভাগে শিক্ষারত অবস্থায় যে কোন সমায়িক পরীক্ষায় ফেল করলে, উক্ত বিভাগ থেকে এখরাজের যোগ্য বলে গণ্য হবে।
- (ঠ) বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হইলে, বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নিতে হবে।
- (ড) হাদীছ গবেষণা বিভাগের ছাত্রদের অন্য কোন বিভাগের ছাত্রদের সঙ্গে বা অন্য কোন রুমে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করার অনুমতি নাই।
- (ঢ) এ বিভাগের কোন পুস্তিকা বা কিতাবাদি বিভাগের বাইরে নিয়ে অধ্যয়ন করা বা কাউকে অধ্যয়নের জন্য দেয়ার অনুমতি নেই।
- (ণ) হাদীছ বিভাগের ছাত্ররা দুই বছর মেয়াদী কোর্স সম্পূর্ণ না করলে সনদ পাবে না।
(ত) উচ্চতর হাদীছ গবেষণা বিভাগে ভর্তির শর্তাবলী:
- দাওরা হাদীছের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- ভর্তি পরীক্ষায় মুমতায বা জাইয়িদ জিদ্দান স্থানে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- বাংলা, আরবী ও উর্দু ভাষায় কথা বলা বা লিখার যোগ্যতা থাকতে হবে।
- বুখারী শরীফ ১ম খন্ড, হিদায়া ৩য় খন্ড, নুখবাতুল ফিক্র, উছূলুশ শাশী ও নাহু-ছরফ এবং ইনশার কিতাব ও বিষয় সমূহের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
১৪ নং ধারা — দারুল ইফতা (উচ্চতর ফিক্বহ বিভাগ)
- (ক) ফতওয়া বিভাগের প্রত্যেক ছাত্র নিজেকে সম্পূর্ণ রুপে উস্তাদের নিকট সোপর্দ করে দিতে হবে।
- (খ) ফতওয়া বিভাগে অবস্থানকালে কোন প্রকারের চাকুরী, ইমামতি মুআযযিনী ও টিউশনী ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- (গ) কোন প্রকার রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত থাকতে পারবে না।
- (ঘ) জামিয়ার কানুন পরিপন্থী কোন প্রকার কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
- (ঙ) কোন ছাত্রের কোন অভিযোগ থাকলে, প্রথমে বিভাগীয় প্রধানকে অবহিত করতে হবে।
- (চ) কোন ছাত্রের কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে, বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নিয়ে তা'লীমাত থেকে ছুটি মঞ্জুর করে যেতে হবে।
- (ছ) জামিয়ার শিক্ষকদের যথাযত মান-সম্মান রক্ষা করে চলতে হবে।
- (জ) সাথীদের সাথে মুহাব্বত ও ভদ্রতার সম্পর্ক রজায় রাখা, ঝগড়া-ফাসাদ ও গীবত-শিকায়ত থেকে বিরত থাকা, ভিতরের কথা বাইরে না বলা ও বাইরের কথা ভিতরে না বলা ইত্যাদি প্রত্যেক ছাত্রের জন্য আবশ্যক।
- (ঝ) প্রথম ছফে তাকবীরে উলার সাথে নামায আদায় করতে হবে।
- (ঞ) শেষ রাত্রে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ ইত্যাদি অবশ্যই পড়তে হবে।
- (ট) উল্লিখিত কানুনের পাশাপাশি জামিয়া কর্তৃক সাধারণ ছাত্রদের নির্ধারিত কানুনও মেনে চলতে হবে।
(ঠ) উচ্চতর ফিক্বহ বিভাগে ভর্তির শর্তাবলী:
- দাওরা হাদীছের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- বাংলা, আরবী ও উর্দু ভাষায় কথা বলা বা লিখার যোগ্যতা থাকতে হবে।
- ফিক্বহ এবং উছূল ফিক্বহ এর মধ্যে বিশেষ ভাবে যোগ্যতা থাকতে হবে।
- বুখারী শরীফ, জালালাইন শরীফ, হিদায়া, শরহে আক্বাঈদ, মুখতাছারুল মাআ'নী, নূরুল আনোয়ার এবং মুকামাতে হারীরীর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- দু' বছর পরিপূর্ণভাবে পড়তে হবে।
১৫ নং ধারা — শু'বায়ে মুবাহাছার আইন-কানুন
- (ক) জামাতে ইয়াযদাহুম থেকে জামাতে শশুম পর্যন্ত প্রত্যেক জামাতের মৌলিক কিতাবগুলোর মুবাহাছা অনুষ্ঠান উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করার পর করতে হবে। তবে রমজান ও কুরবানীর ছুটি সমাপ্তির পর পর বিশেষ কোন বিষয় যেমন-নাহু, ছরফ, তাজভীদ, ফরায়েয ও ভূগোল ইত্যাদির উপর মুবাহাছা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
- (খ) প্রতি জামাতের মৌলিক কিতাবগুলোর বছরে অন্তত তিনবার মুবাহাছা হবে। প্রতি পরীক্ষার পনের দিন পূর্ব থেকে পরীক্ষা শেষ করা পর্যন্ত মুবাহাছার কর্মসূচী স্থগিত থাকবে।
- (গ) যে কোন জামাতের যে কোন কিতাবের মুবাহাছা দেয়া হলে, তাতে সে জামাতের সকল ছাত্র উপস্থিত থাকা অপরিহার্য।
১৬ নং ধারা — তাজভীদ ও ক্বিরাআত বিভাগ
- (ক) তাজভীদ বিভাগে ভর্তির জন্য দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত পড়তে হবে। পাঞ্জুম/চাহারুম পড়ার পর এ বিভাগে ভর্তির ইচ্ছা করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনুমতি দেয়া যেতে পারে।
- (খ) তাজভীদ বিভাগে ভর্তির পূর্বে উক্ত বিভাগের নাজেমের সাথে পরামর্শ করতে হবে।
- (গ) তাজভীদ বিভাগের ছাত্রদের জন্য যে এ বিভাগের নির্ধারিত বিধি-বিধান ছাড়াও জামিয়ার সাধারণ ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত আইন-কানুন মেনে চলে অপরিহার্য হবে।
- (ঘ) তাজভীদ বিভাগের প্রত্যেক ছাত্রের জামিয়ার ছাত্রাবাসে সর্বক্ষণ উপস্থিত থাকা জরুরী।
- (ঙ) রিওয়ায়াতে হাফ্ছ পরিপূর্ণ পড়ার জন্য কমপক্ষে পূর্ণ এক বৎসর সময় দিতে হবে।
১৭ নং ধারা — শর্ট কোর্স (মুতাফাররিক্বা) বিভাগ
- (ক) জামিয়ার শর্ট কোর্স বিভাগের শিক্ষার মেয়াদ কাল তিন বৎসর হবে।
- (খ) জামাতে দাওয়াযদাহুম থেকে শুরু করে জামাতে পাঞ্জুম পর্যন্ত (সব কিতাবগুলো) তিন বৎসরে পড়ানো হবে।
- (গ) জামিয়ার নির্ধারিত সবকের সময়ের মধ্যে শর্ট কোর্স বিভাগের সবকের সময় সীমিত হবে না। বরং প্রয়োজনে রাত্রিতে বা ফজরের নামাযের পরও সবক হবে।
- (ঘ) শর্ট কোর্স জামিয়ার একটি বিশেষ বিভাগ বিধায় জামিয়ার সাধারণ ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত যাবতীয় আইন-কানুন মেনে চলা এ বিভাগের ছাত্রদের অপরিহার্য হবে।
- (ঙ) ছুটির প্রয়োজন হলে প্রথমে অত্র বিভাগের নাজেম সাহেবের অনুমতি নিয়ে নাজেমে তা'লীমাতের খেদমতে লিখিত দরখাস্ত পেশ করে নিতে হবে।
- (চ) দিবা-রাত্রি শর্ট কোর্স বিভাগের নির্ধারিত স্থানে ছাত্রদের উপস্থিত থাকা জরুরী। সুতরাং আছরের পরেও বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, উক্ত বিভাগের নাজেমের মৌখিক অনুমতি নিতে হবে।
- (ছ) এ বিভাগের নাজেমের কর্ণগোচর করা ব্যতীত কোন অভিযোগ বাইরে বলা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- (জ) ছাত্রদের মেধা বিকাশের অভিপ্রায়ে পাক্ষিক সেমিনার ও সেম্পযিয়ামের আয়োজন করা যাবে এবং এতে ছাত্রদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হবে।
(ঝ) এ বিভাগে ভর্তির শর্তাবলী:
- পূর্ণ ৩০ পারা হিফজ সম্পন্নকারী হাফেজে কুরআন হতে হবে। অন্যথায় বয়স ১৫ বৎসরের উর্ধ্বে হতে হবে।
- ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- স্কুল-কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হলে কমপক্ষে কুরআন শরীফ ছহীহ ভাবে পড়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে ভর্তির জন্য শর্টকোর্সের পাঠ্যসূচী অনুযায়ী নিয়মিত লেখাপড়া করে আসতে হবে। হ্যাঁ, প্রয়োজনে উক্ত বিভাগের নাজেমের কাছে বিশেষ বিবেচনার ক্ষমতা থাকবে।
- (ঞ) জামিয়ার কোন জিম্মাদার কিংবা কোন শিক্ষক যদি এ বিভাগের কোন ছাত্রকে কোন কাজে পাঠানোর ইচ্ছা করেন, তাহলে প্রথমে এ বিভাগের নাজেমকে অবগত করা জরুরী।
১৮ নং ধারা — হিফজ বিভাগ
এ বিভাগ জামিয়ার একটি বিশেষ বিভাগ। তাই হিফজ বিভাগের আইন-কানুনের পাশাপাশি ২ নং ও ৩নং ধারার সমস্ত আইন-কানুনও মেনে চলা এ বিভাগের ছাত্রদের জন্য অপরিহার্য।
- (ক) হিফজ বিভাগে ভর্তিচ্ছুক ছাত্রদেরকে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ অবশ্যই ছহীহ-শুদ্ধ ভাবে নাজেরা পড়ে আসতে হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ১০/১২ বছরের উর্ধ্ব বয়সী ছাত্রদের কে হিফজখানায় ভর্তি করা হবে না। তাছাড়া ভর্তিকালীন সময়ে ছাত্রদের অভিভাবককে অবশ্যই সাথে আসতে হবে।
- (খ) দাওরের (পুনঃপাঠের) ছাত্ররা দৈনিক শুনানো পড়াগুলো শেষ রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাযে তেলাওয়াত করবে। আর সবকের ছাত্ররা চার রাকাআত তাহাজ্জুদ পড়ে শিক্ষক তাশরীফ আনার সাথে সাথে নির্ধারিত লাইনে বসে যাবে।
- (গ) সবক শুনানোর সময় এক শব্দকে ২বার অথবা যের ও যবরের পরিবর্তন অথবা মূল শব্দকে বিকৃত করে পড়লে, তাকে সামনের দিকে সবকে তরক্বী দেয়া শিক্ষকের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। এভাবে ফজরের নামাযের বিরতির আগে আগে সবক শুনিয়ে ফারেগ হতে হবে।
- (ঘ) ফজরের পর হতে নাস্তার বিরতির আগে আগে সবকের পারা শুনিয়ে শেষ করতে হবে। সুতরাং এশার পর সবকের পারা ভালভাবে মুখস্থ করতে হবে।
- (ঙ) সকালে নাস্তার সংকেত দেয়ার সাথে সাথে ২০ মিনিটের মধ্যে পেশাব, পায়খানা সহ নাস্তার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
- (চ) নাস্তা থেকে ফারেগ হয়ে পিছলা (পূর্বের) সবক শুনানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। এর জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারিত থাকবে।
- (ছ) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতির সময়ে খাওয়া দাওয়া ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে গেইট বন্ধ করার পূর্বে শুয়ে পড়তে হবে। ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ঘুমানোর জন্য এ বিরতি অব্যাহত থাকবে।
- (জ) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে সংকেত দেয়ার সাথে সাথে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে অযু-গোসল ইত্যাদির প্রয়োজন পূরণের জন্য ২০ মিনিট সময় নির্ধারিত থাকবে।
- (ঝ) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট থেকে নিয়মিত দৈনন্দিন পিছনের (পূর্বের) সবক শুনানো আরম্ভ হবে এবং তা জোহরের জামাতের ১৫ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত চলবে। অতঃপর নামাযের বিরতি ঘোষণার সাথে সাথে দস্তারবন্দী করে সারিবদ্ধ হয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে হবে।
- (ঞ) জোহরের পর ৩টা ৩০মিনিট/ ৩টা ৪৫ মিনিটের আগে পিছলা ২ পারা শুনিয়ে শেষ করতে হবে। অতঃপর আগামী সবকের জন্য সবকের ছাত্ররা নাজেরা শুদ্ধ করে শুনাবে।
- (ট) আছরের পর খাওয়া-দাওয়া, ভ্রমণ এবং জরুরী কাজ সমাধা করে মাগরিবের নামাযের ১৫ মিনিট আগে সকলকে হিফজখানায় উপস্থিত হয়ে সারিবদ্ধ ভাবে মসজিদে যেতে হবে।
- (ঠ) মাগরিব নামাযের পর তাড়াতাড়ি নিজ সিটে বসে সবক মুখস্থ করে এশার নামায়ের আগে দাওরের ছাত্রদেরকে শুনাতে হবে। তারপর এশার নামাযের পর ঘুমের বিরতির আগ পর্যন্ত সবকের পারা ইয়াদ করার জন্য গভীর ভাবে মনোযোগ দিতে হবে। অতঃপর ঘুমের জন্য বিরতি ঘোষণা করা হলে ২০ মিনিটের ভিতর পেশাব ও পায়খানা ইত্যাদির প্রয়োজন সমাধা করে ঘুমিয়ে পড়তে হবে।
- (ড) হিফজ বিভাগের একজন শিক্ষকের নিকট ২০ জনের অধিক ছাত্র থাকা অনুচিৎ।
- (ঢ) শীতকালীন মৌসুমে রাত ৪টা কিংবা ৩টা ৪৫ মিনিটে, গ্রীষ্মকালীন সময়ে ৩টা ৩০ মিনিটের সময় নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে জরুরত সেরে ৪ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাযান্তে দুআ' করে নিজ নিজ সিটে বসে যাবে। গেইট বন্ধ হওয়ার পর কেউ আসলে শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য হবে।
- (ণ) হিফজ বিভাগের কোন ছাত্রের পোশাক-পরিচ্ছেদ সুন্নাহ মোতাবেক না থাকলে ১ মাসের মধ্যে সংশোধন করে নিতে হবে।
- (ত) হিফজ বিভাগে অধ্যয়নরত প্রত্যেক ছাত্রকে ৬ মাসে কমপক্ষে ৫ পারা হিফজ করতে হবে। অন্যথায় ৬ মাস পরে সে হিফজের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
- (থ) ছুটি নেয়ার প্রয়োজন হলে, প্রথমে হিফজ বিভাগ প্রধানের অনুমতি নিয়ে নাজেমে তা'লীমাত থেকে মঞ্জুরী নিতে হবে।
- (দ) এক মাসের কম সময়ের মধ্যে কোন ছাত্রকে ছুটি দেয়া যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে অভিভাবকের দরখাস্তের ভিত্তিতে বিবেচনা করে দুই দিনের ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে। কোন ছাত্র বিনা ছুটিতে এক নাগাদ ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলে ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে বিবেচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফি দিয়ে পুনরায় ভর্তি নবায়নের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। যদি কোন ছাত্র ছুটি মঞ্জুর করে বাড়ি যাওয়ার পর অসুস্থতা কিংবা অন্য কোন কারণে যথা সময় জামিয়ায় উপস্থিত হতে না পারে, তাহলে উপস্থিত হওয়ার পর শীঘ্রই দরখাস্তের মাধ্যমে ছুটি নিতে হবে।
- (ধ) কোন ছাত্রের মারাত্মক চরিত্রহীনতা বা চুরির অপরাধ পরিলক্ষিত হলে, উক্ত ছাত্রকে তাৎক্ষনিক উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার পর জামিয়া থেকে বহিস্কার করা হবে এবং চুরিকৃত বস্তু ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দিতে অভিভাবক বাধ্য থাকবে। পুনরায় ভর্তি নবায়নের অনুমতি দেয়া হবে না।
- (ন) ছাত্রদের খোরাকী ও নাস্তা ইত্যাদির নির্ধারিত টাকা হিজরী সনের প্রত্যেক মাসের ৩ তারিখের মধ্যেই জমা করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রের নাস্তা, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচাদি বন্ধ থাকবে। ছাত্রের কোন প্রকার অসুবিধা হলে জামিয়া কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ছাত্ররা নিজের কাছে কোন টাকা-পয়সা রাখতে পারবে না। সমস্ত টাকা-পয়সা হিফজ বিভাগের শিক্ষকের কাছে জমা থাকবে। প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রয়োজন মিটাবে। অন্যথায় টাকা-পয়সা চুরি হলে, কোন অভিযোগ করতে পারবে না।
- (প) হিফজ বিভাগে অধ্যয়নরত কোন ছাত্র হিফজখানা ব্যতীত জামিয়ার অন্য কোন ছাত্রাবাসে বা অন্য কোথাও থাকা, রাত যাপন করা, খাওয়া-দাওয়া করা সম্পূর্ণ নিষেধ। কিতাবখানার ছাত্রদের সাথে মেলামেশা করা ও এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করা নিষেধ। অতি প্রয়োজনে শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজন মিটানো যাবে।
- (ফ) প্রত্যেক ছাত্রকে যথা সময়ে হিফজ বিভাগ প্রধানের নির্দেশ পাওয়া মাত্র মাথার চুল মুণ্ডাতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক কোন ছাত্র দাড়ি কাটলে বা কামালে কিংবা কোন শিক্ষকের সাথে বেআদবী করলে, জামিয়া থেকে বহিস্কার করা হবে।
- (ব) হিফজখানার কোন শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া কোন অভিভাবক ছাত্রের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে না। অনুমতি লাভের পর অতিস্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধা করবে, যাতে পড়ালেখার ক্ষতি না হয়।
- (ভ) প্রত্যেক ছাত্রকে প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক শবিনা পড়তে হবে এবং ফারেগীন হাফেজদেরকে এক বৈঠকে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ শুনিয়ে ফারেগ হওয়া বাধ্যতামূলক।
- (ম) হিফজ বিভাগ তথা জামিয়া কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত যে কোন প্রকার বিধি-বিধান ছাত্র ও তার অভিভাবকদের মেনে চলা অপরিহার্য হবে।
- (য) অভিভাবকগণ নিজ নিজ তত্ত্বাবধানের ছাত্রদের পড়াশুনার যাবতীয় আসবাবপত্র যথা সময়ে সংগ্রহ করতে সচেষ্ট থাকবেন।
- (র) ছাত্রদের কোন অপরাধে শাস্তি করা হলে, ছাত্র কিংবা তার অভিভাবক কোন অভিযোগ করতে পারবে না।
- (ল) কোন ছাত্র পালিয়ে গেলে জামিয়া কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন না বরং অপরাপর তিন বার পালিয়ে গেলে চতুর্থ বারে তাকে বহিস্কারযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।
১৯ নং ধারা — নূরানী বিভাগ (নাজেরাখানা)
- (ক) নূরানী বিভাগ জামিয়ার অন্তর্ভূক্ত বিধায় জামিয়ার যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলা সেই বিভাগের ছাত্রদের জন্য অপরিহার্য।
- (খ) নূরানী বিভাগের শিক্ষার মেয়াদকাল তিন বৎসর।
- (গ) তিন বৎসরের মধ্যে সিলেবাস অনুযায়ী নূরানী তৃতীয় জামাত পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল, ইতিহাস ও অংক সহ সম্পূর্ণ কুরআন মজীদ তাজভীদ সহকারে পাঠদান করা হবে।
- (ঘ) নূরানী প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার জন্য কমপক্ষে ছাত্র/ছাত্রীর বয়স ৬ বৎসরের উর্ধ্বে এবং ১০ বৎসরের নিম্নে হতে হবে।
- (ঙ) নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার জন্য কমপক্ষে ছাত্র/ছাত্রীর বয়স ৬ বৎসরের উর্ধ্বে এবং ১১ বৎসরের নিম্নে হতে হবে।
- (চ) নূরানী তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার জন্য কমপক্ষে ছাত্র/ছাত্রীর বয়স ৭ বৎসরের উর্ধ্বে এবং ১৫ বৎসরের নিম্নে হতে হবে।
- (ছ) আবাসিক ছাত্রদের জন্য অত্র জামিয়ায় অধ্যয়নরত যে কোন নিকটতম আত্মীয় কিংবা পরিচিত একজন ছাত্র অভিভাবক হিসাবে থাকতে হবে। অন্যথায় ভর্তি করা যাবে না।
- (জ) শুধুমাত্র স্বনির্ভর ছাত্রদেরকে ভর্তি করা যাবে।
- (ঝ) ছাত্রদের অভিভাবকগণ ছাত্রদের ব্যাপারে যে কোন অভিযোগ নূরানী বিভাগের প্রধানের নিকট পেশ করতে হবে। তিনি সমাধান করতে না পারলে জামিয়া কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা গ্রহণ করবেন।
- (ঞ) হিজরী সন হিসাবে রমজানের পর শাওয়ালের ৫ তারিখ থেকে ভর্তি আরম্ভ হয়ে কুরবানীর বন্ধের পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
- (ট) অভিভাবকগণকে প্রতি মাসের মধ্যে নিজ অধীনস্ত ছাত্রদের খোঁজ-খবর নিতে হবে।
- (ঠ) ছাত্রদের খরচাদির টাকা শেষ হয়ে গেলে কোন শিক্ষক কোন ছাত্রকে খরচের টাকা দিতে অপারগ থাকবেন।
- (ড) প্রথম এক মাসে কোন ছাত্রকে ছুটি দেয়া যাবে না। এক মাস পর তিন দিনের ছুটি দেয়া হবে।
- (ঢ) কোন মহিলা অভিভাবক গ্রহণযোগ্য হবে না।
- (ণ) এ বিভাগের ছাত্ররা অযু-গোসল করার সময় নূরানী বিভাগের যে কোন একজন শিক্ষক তাদের পাশে থাকা অত্যন্ত জরুরী।
- (ত) যদি নূরানী বিভাগের কোন ছাত্র ছুটি নিতে চায়, তাহলে প্রথমে নিজ শিক্ষক থেকে অনুমতি নিবে। অতঃপর নাজেমে তা'লীমাতের নিকট থেকে ছুটি মঞ্জুর করে নিবে।
- (থ) বিনা ছুটিতে ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলে, তার ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে। তাকে আবার নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ভর্তি নবায়ন করতে হবে।
- (দ) নূরানী বিভাগের প্রত্যেকটি ছাত্রকে নাস্তা, পানাহার ও ঘুম নূরানী বিভাগে করতে হবে।
২০ নং ধারা — শু'বায়ে মুশাআরা (কাব্য চর্চা বিভাগ)
- (ক) জামিয়ার যে কোন জামাতের (সর্বস্তরের) ছাত্র শু'বায়ে মুশাআরায় ভর্তি হতে পারবে।
- (খ) শু'বায়ে মুশাআরায় নির্ধারিত ফরমে ভর্তি করা যাবে।
- (গ) কাব্য রচনা শিক্ষার পাশাপাশি উক্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে বৎসরে কমপক্ষে তিনটি বাজমে মুশাআরা তথা কাব্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
- (ঘ) হামদ, না'তে রাসূল (সা.), ছাহাবায়ে কিরামের আলোচনা, হজ্জযাত্রীদের বিদায়, তাদের আগমন উপলক্ষে অভ্যর্থনা, কারো মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ইত্যাদি বিষয়ে কাব্যানুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
- (ঙ) কাব্যানুষ্ঠানে কোন কবিতা নাজেমে শু'বার মঞ্জুরী ছাড়া পড়া যাবে না।
- (চ) শিক্ষাবর্ষের শেষে উক্ত শু'বায় যোগ্যতার্জনকারী ছাত্রদের পুরস্কার প্রদান করা যেতে পারে।
২১ নং ধারা — শু'বায়ে মুনাযারার নিয়মাবলী
- (ক) জামিয়ায় বৎসরে কমপক্ষে তিনটি মুনাযারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
- (খ) মুনাযারা অনুষ্ঠানে জামাতে পাঞ্জুম থেকে দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত জামাতগুলোর ছাত্রদের মধ্য থেকে নাযেমে মুনাযারা যাদেরকে অংশগ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করবেন, তাদের সে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হবে।
- (গ) মুনাযারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের বই-পুস্তক ও প্রয়োজনীয় মাওয়াদ সংগ্রহ করার জন্য নাজেমে মুনাযারার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
- (ঘ) নাজেমে মুনাযারা যখন মুনাযারা দেয়ার হুকুম করেন, তখন তা মেনে নেয়া ছাত্রদের জন্য কর্তব্য।
২২ নং ধারা — শু'বায়ে আদবে আরবী (আরবী সাহিত্য বিভাগ)
- (ক) এ বিভাগে নির্ধারিত ফরমে ভর্তিচ্ছুক ছাত্রদের কে ভর্তি করা হবে।
- (খ) জামিয়ার যে কোন বিভাগের ছাত্র এ শু'বায় ভর্তি হতে পারবে।
- (গ) এ শু'বার তত্ত্বাবধানে প্রতি মাসে দুইটি সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
- (ঘ) এ শু'বার ছাত্রদের আয়োজনে কমপক্ষে বৎসরে তিনটি দেয়ালিকা বের করা জরুরী।
- (ঙ) এ শু'বায়ে আদবে আরবীর সবকে ছাত্ররা উপস্থিত থাকা জরুরী।
- (চ) এ শু'বার প্রত্যেক ছাত্রকে জামিয়ার সাধারণ ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত আইন-কানুন মেনে চলার পাশাপাশি এ শু'বার যাবতীয় বিধি-বিধান মেনে চলা অপরিহার্য হবে।
২৩ নং ধারা — বাংলা সাহিত্য বিভাগ
- (ক) জামিয়ার বাংলা সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার মেয়াদকাল দুই বছর।
- (খ) জামিয়ার নির্ধারিত সবকের সময়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্য বিভাগের সবকের সময় সীমিত হবে না। বরং প্রয়োজনে রাত্রিতে বা ফজরের নামাযের পরও সবক হবে।
- (গ) দিবা-রাত্রি বাংলা সাহিত্য বিভাগের নির্ধারিত স্থানে সমস্ত ছাত্রের উপস্থিত থাকা জরুরী। সুতরাং আছরের পরেও বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, উক্ত বিভাগের জিম্মাদারের মৌখিক অনুমতি নিতে হবে।
- (ঘ) এ শু'বার তত্ত্বাবধানে প্রতি মাসে দুইটি বাংলা ও ইংরেজিতে ডিবেটিং সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
- (ঙ) বাংলা সাহিত্য বিভাগে ভর্তির জন্য দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত পড়তে হবে।
২৪ নং ধারা — শু'বায়ে কিতাবত (সুন্দর হস্তলিপি বিভাগ)
- (ক) জামিয়ার জামাতে নাহুম থেকে তখাচ্ছুছ পর্যন্ত ছাত্রদের ভর্তির সুযোগ এ শু'বায় থাকবে।
- (খ) এ বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জামিয়া কর্তৃক ঘোষিত আইন-কানুন এর পাশাপাশি এ বিভাগের নির্ধারিত সকল বিধি-বিধানও মেনে চলা অপরিহার্য হবে।
- (গ) বহিরাগত কেউ ভর্তির ইচ্ছা করলে সরাসরি মুহতামিম সাহেব ও নাজেমে তা'লীমাত বরাবর আবেদনপত্র পেশ করতে হবে এবং একমাত্র তাদের সম্মতিক্রমেই এ শু'বায় ভর্তি করা যেতে পারবে।
- (ঘ) হস্তলিপি প্রশিক্ষণের নির্ধারিত সময়ে আবেদনকারী ছাত্রদেরকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে এবং ধারাবাহিক ভাবে অন্তত তিন বৎসর লিপিকারে সময় দিতে হবে।
- (ঙ) বাংলা, ইংরেজি, আরবী ও ফার্সী ইত্যাদি যার যে বিষয়ে পারদর্শীতা অর্জনের ইচ্ছা থাকে, তাকে সে বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া যাবে।
- (চ) হস্তলিপি প্রশিক্ষণের সরঞ্জামাদি যথা: কলম, কালি, খাতা, স্কেল ইত্যাদি আবেদনকারীর নিজ সংগ্রহে থাকা আবশ্যক।
- (ছ) হস্তলিপি প্রশিক্ষণ প্রথম সাময়িক পরীক্ষার পর কোন ছাত্রের মেধা বিকাশে দুর্বলতা অনুভব করলে, মুহতামিম সাহেবের অনুমতিক্রমে উপরোক্ত বিভাগ থেকে উক্ত ছাত্রকে বহিস্কার করার অবকাশ থাকবে। কেননা, হস্তলিপি প্রশিক্ষণ কোন স্বাভাবিক বিষয় নয়, তা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রচুর হারে মেধা বিকাশের প্রয়োজন রয়েছে।
২৫ নং ধারা — পাঠাগার
বিভিন্ন বিষয়ে অবগতির জন্য অত্র জামিয়ায় একটি পাঠাগার রয়েছে, যাতে ছাত্ররা বিভিন্ন বই-পুস্তক পাঠ করার সুযোগ পায়।
- (ক) পাঠাগারের বই আসাতিযা এবং মুনাযারায় অংশগ্রহণকারী ছাত্ররা ব্যতীত অন্য কাউকে ধার দেয়া সমীচীন হবে না। অর্থাৎ পাঠাগারে বসে অধ্যয়ন করতে হবে।
- (খ) যারা নিয়মিত ভাবে পাঠাগারে অধ্যয়ন করবে, তাদের দ্বারা বৎসরে একবার সেমিনার করা ও কোন মজমূনে প্রবন্ধ লেখানো এবং এর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদেরকে পুরস্কার প্রদান করা যেতে পারে।
- (গ) যদি কোন ছাত্র পাঠাগারের কোন বই-পুস্তক পাঠ করতে চায়, তাহলে নাজেমে পাঠাগারের সাথে যোগাযোগ করবে।
- (ঘ) পাঠাগারের বই-পুস্তক বাইরে নেয়া যাবে না। সুতরাং ৯টা হতে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ও আছরের পর হতে মাগরিব পর্যন্ত পাঠাগারে বসে অধ্যয়ন করতে হবে।
জামিয়ার তা'লীমী নিছাব
জামাতওয়ারি পাঠ্যসূচি (নকশায়ে নিসাবে তা'লীম — তাখাচ্ছুছাত, দাওরায়ে হাদীছ, উলা থেকে ইয়াযদাহুম ও মুতাফাররিকা) ছাপা পুস্তিকার ২৯–৩০ পৃষ্ঠায় আছে; প্রতিটি বিভাগের পাতায় সংশ্লিষ্ট কিতাবের তালিকা দেখুন।
ভর্তির আবেদন পত্র
বরাবর, হযরত মুহতামিম/শিক্ষা পরিচালক সাহেব (দা.বা.)। আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আমি এ "ছাত্র সংবিধান" শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ওয়াদা করছি যে, উক্ত সংবিধানের সমস্ত আইন-কানুন মেনে চলব এবং জামিয়া কর্তৃপক্ষ কোন কারণে যদি আমাকে বহিস্কার করে, তাহলে আমার কোন আপত্তি থাকবে না। অতএব, আশা করি আমাকে অত্র জামিয়ায় ভর্তির অনুমতি প্রদান করে বাধিত করবেন।
অনলাইনে «আমি সংবিধান পড়েছি ও মেনে চলব» টিক দেওয়া এই ওয়াদারই সমান; ভর্তি ফর্মের বাকি তথ্য (নাম, পিতা-মাতা, জন্ম তারিখ, জন্ম নিবন্ধন, ঠিকানা, জামাত, পূর্ব প্রতিষ্ঠান) অনলাইন ফর্মেই নেওয়া হয়।
